April 17, 2021, 11:27 am
Headlines:
Civil Society urged PM to speak for “A Global Regime on Climate Displacement” in Leaders’ Summit on Climate Effective social dialogues key to recovery of labour market during COVID-19 : Experts কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরী চিরস্মরণীয়-বরণীয় : তথ্যমন্ত্রী মুম্বাই-এ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদ্‌যাপন কবরীর মৃত্যুতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গের শোক হেফাজত কোনোভাবেই ছাড় পাবে না : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী খুলনায় করোনাকালে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করোনাকালে চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দায়িত্বপালন, কিছু অভিযোগ ও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য সারাহ বেগম কবরী’র মৃত্যুতে পরিবেশ মন্ত্রী ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর শোক কিংবদন্তী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে স্পিকার ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক জাপানে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপন মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণের সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত  মুজিবনগর সরকারের চারশ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় : তথ্যমন্ত্রী কবরীর মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর শোক খাবার পরিবেশনসহ স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় ১৩ মামলায় ৩৩ হাজারের অধিক জরিমানা ঢাদসিকের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ই-পোস্টার প্রকাশ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী  ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী ঐতিহাসিক মুজিবনগর  দিবসের কর্মসূচি মুজিবনগর দিবসের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা জোগাবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

 আঞ্চলিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সারাদেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবেঃ  বিআইপির সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Sunday, March 28, 2021,

 আঞ্চলিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সারাদেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবেঃ  বিআইপির সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

ঢাকা, ২৮ মার্চ ২০২১ :

রাষ্ট্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবার কথা বলা হলেও স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও উন্নয়নের আঞ্চলিক বৈষম্য দেখা যায়।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আঞ্চলিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সারাদেশের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য পূরণ করতে হবে; এলক্ষ্যে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিকল্পনাবিদদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বি.আই.পি.)-র উদ্যোগে অদ্য ২৮ মার্চ ২০২১ (রবিবার), দুপুর ১২.৩০ টায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিকল্পনার গুরুত্ব” শীর্ষক সেমিনার নগর পরিকল্পনাবিদগণ এমন মন্তব্য করেন।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ রাসেল কবির এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম, এমপি। এছাড়াও সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ।

 

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বি.আই.পি.-র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর সাধারন সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি ছিল ছয় দফা আন্দোলন যার অন্যতম কারণ ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অনুন্নয়ন ও আঞ্চলিক বৈষম্য। সংবিধানের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা সত্বেও উন্নয়ন বৈষম্য কেন বাড়ছে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমাদের তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে, একই সাথে বর্তমান সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কৌশলের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বৈষম্য কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক।

 

ড. আদিল তার প্রবন্ধে আর ও বলেন,  স্বা্ধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই রাজধানী ঢাকার শহরের বিকাশ ও বৃদ্ধি বেড়েছে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে এবং এরই ফলে রাজধানী ঢাকা ব্যতিরেকে অন্যান্য নগরগুলোর গড়ে উঠবার যে সম্ভাবনা ছিল, ঢাকাকেন্দ্রিক অতি নির্ভরতা আমাদের নগরায়নের সেই অন্তহীন সম্ভাবনা হ্রাস করেছে বহুলাংশে। আমাদের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দেশের উন্নয়ন ও সুষম নগরায়ন নিশ্চিত করতে দেশের সেকেন্ডারি শহরগুলোর উপর প্রয়োজনীয় গুরুত্ব বাড়ানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের আহবান জানান ড. আদিল মুহাম্মদ।

 

বঙ্গবন্ধু পুরো বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা করতে বলেছেন সবাইকে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন “শুধুমাত্র ঢাকা নিয়ে চিন্তা ও পরিকল্পনা করলে কিন্তু হবে না, আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে সমগ্র বাংলাদেশ নিয়ে। ঢাকা নিয়ে পরিকল্পনা করবার ভুলটি যেনো না করা হয়, সবাইকে পুরো দেশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে”। বঙ্গবন্ধুর এ মন্তব্যটি বর্তমান বাংলাদেশের জন্য সমভাবে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে সমগ্র দেশের জন্য উন্নয়নের বিকন্দ্রীকরণকে সামনে রেখে বংগবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহবান জানান ড. আদিল।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম, এমপি বলেন, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে সকলের কাছে পৌছানো সম্ভব হলেই উন্নয়নের বিপ্লব সম্ভব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দুর করার উদ্দেশ্যে সারা দেশের উন্নয়ন নিয়েই আজীবন কাজ করে গিয়েছেন এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা পর্যায়ে নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের মাধ্যমে দেশের ভৌত উন্নয়নকে আরো টেকসই ও স্থায়িত্বশীল করা হবে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

 

সেমিনারের বিশেষ অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সামনের দিনের নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ১৫টি পাইলট প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, উন্নত দেশে রূপান্তরের পথযাত্রায় নগরগুলোই হবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। কারণ ততোদিনে দেশের অর্ধেক মানুষ নগরে বাস করবে এবং ৮০ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নগরেই সংগঠিত হবে । নগরগুলোকে যদি পরিকল্পিতভাবে না সাজানো যায় তাহলে লক্ষ্য অর্জনের পথ ভীষনভাবে বাধাগ্রস্থ হবে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় খুব সুস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে দেশের নগরের স্থানীয় সরকারগুলো ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩২৯টি পৌরসভা ও ৪১৬টি উপজেলা কিভাবে প্রস্তুত করতে হবে। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলা পর্যায় এবং জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌছানোর লক্ষ্যে তিনি পরিকল্পনাবিদদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতি সরকারকে আহবান জানান।  বর্তমানে সারাদেশে মানসম্পন্ন ভবন নির্মাণ ও বসবাসের ঝুঁকি হ্রাস করতে বিল্ডিং কোডের দ্রুত বাস্তবায়ন করতা “বিল্ডিং রেগুলেটরি আথরিটি” গঠনের মাধ্যমে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন বিআইপির সভাপতি। পরিকল্পিত নগর, অঞ্চল ও গ্রামীণ উন্নয়ন-কে সঠিক নীতি ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন। আমাদের ভিশন ২০৪১ এর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা করবার আহবান জানান ড. আকতার মাহমুদ।

 

সেমিনার উপস্থিত বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে এসে দেশের প্রবাহমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে মহাপরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের স্থায়িত্বশীল ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নগর ও গ্রাম সমূহের ভৌত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন। এলক্ষ্যে যে সকল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তৈরী হয়েছে তার দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা দরকার এবং যে সকল শহরের মহাপরিকল্পনা এখনও প্রস্তুত করা হয়নি তা দ্রুত প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দরকার।

 

একইসাথে মহাপরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নগর ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার সমূহকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরী ও আর্থিক সংস্থান সৃষ্টি করা দরকার। এছাড়াও পরিকল্পিত নগর, অঞ্চল ও গ্রামীণ উন্নয়ন-কে সঠিক নীতি ও আইনী কাঠামোর আওতায় আনবার লক্ষ্যে খসড়া “নগর উন্নয়ন নীতি” এবং “নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন”-র চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মহাপরিকল্পনাভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিকল্পনার অনুশীলন ও পরিকল্পনার পেশা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বক্তারা অভিমত দেন।

 

Social Medias

More News on this Topic
01779911004