March 1, 2021, 10:41 pm
Headlines:
সকল দুর্যোগ ও সংগ্রাম মোকাবিলায় পুলিশের রয়েছে অসামান্য অবদান: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই জাতীয় ভোটার দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী ৭ মার্চের ভাষণ ছিলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার উৎস: তথ্য প্রতিমন্ত্রী নিরপেক্ষ জাতীয় প্রেসক্লাবকে সংঘর্ষের ঢাল বানানো অপরাধের শামিল: তথ্যমন্ত্রী সকলের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে হাঁটার পরিবেশ সৃষ্টির আহবান পবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষ: বিএনপির ৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দায়িত্বরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণ ওয়ারীর হাসান হত্যার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার ডিএমপির ছাত্রদলের কর্মসূচির সময় পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে বীমার সম্প্রসারণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ০৩টি কন্টিনজেন্টের ঢাকা ত্যাগ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয় তার নিশ্চয়তা দেবে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা: প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের অর্থ দেশের উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে: পরিবেশ ও বন মন্ত্রী OIC Assistant Secretary General for Political Affairs visits Rohingya Camps চট্টগ্রামে বিসিক শিল্প ও পণ্য মেলা চলছে মাদক মামলায় ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ বিসিক ভবনে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Monday, February 22, 2021,

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন

 

নিউইয়র্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১:

 

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গতকাল মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান একুশের ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এর আগে প্রভাতফেরির মাধ্যমে অডিটোরিয়ামটিতে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং মহান একুশের ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা পর্ব শুরু হয় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। স্বাগত ভাষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “শিক্ষায় এবং সমাজে বহুভাষার অন্তর্ভুক্তি সযত্নে লালন করি (Fostering multilingualism for inclusion in education and society)” উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, “বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে বহুভাষিকতাকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে”।

ভাষণের শুরুতেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, “১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এই পরিষদই ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করে। জাতির পিতা ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার গ্রেফতার হয়েছেন। জেলে থেকে ভাষা আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারী করা ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন ভাষা শহিদগণ”।

ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই কিভাবে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সে প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘসহ বিশ্ব পরিমন্ডলে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য কোভিড-১৯ এর টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন এবং চলমান টিকা প্রদান কর্মসূচিতে সরকার যে সফলতা দেখিয়েছে তা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, “বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যে প্রস্তাবনা রেখেছেন তা বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে’’।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা উজ্জ্বীবিত রাখতে পরিবার এবং কমিউনিটিতে বাংলার শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখতে প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কোভিড-১৯ জনিত স্থানীয় বিধিনিষেধ অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানটি উদ্‌যাপন করা হয়।

 

জর্দানে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন

 

জর্ডান, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১:

জর্দানে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও ভার্চুয়াল কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

দিবসের প্রত্যূষে দূতাবাসে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও দূতাবাসে স্থাপিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় দূতাবাস নির্মিত একটি ছোট ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত সহ কূটনীতিকবৃন্দ, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, জর্ডানের স্থানীয় নাগরিক এবং জর্ডানে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার শুরুতেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, জর্দানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কোভিড মহামারির কারনে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও জর্ডান, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া সকল সন্মানিত অতিথি ও দর্শকবৃন্দকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান। তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাঙালি জাতীয় চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি স্বাধীন জাতির ভিত রচনা করেছিল যা কয়েক দশকের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর বাসেম মোহাম্মদ আল তুয়েসি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে  রাষ্ট্রপতি,  প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বানী পাঠ করা হয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রদত্ত ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জর্ডানের সংস্কৃতি মন্ত্রী ডক্টর বাসেম মোহাম্মদ আল তুয়েসি বলেন, বাঙালির ভাষার জন্য আত্মত্যাগ শুধু মাত্র তাদের নিজেদের ভাষাই নয় বরং সে সাথে বিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র ও আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের ভাষা শহিদ দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি আরো বলেন, ভাষা বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং এটি মানুষের অতীত, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যতের সাথে সেতুবন্ধন ও যোগাযোগের মৌলিক মাধ্যম। ভাষা একটি জাতীর পরিচয় বহন করে। তাই বিশ্ব যত বেশি বহুভাষাভাষী সংখ্যা বজায় রাখতে পারবে ততই আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হবে। তিনি বাংলাদেশ ও জর্দানের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় ভাষার শিল্প ও সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনা সমূহ উভয় ভাষায় অনুবাদ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি এ দিবসকে আন্তর্জাতিকীকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একুশের গান “আমার ভাইয়ের রক্তে বাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”গানটি বাংলা ও আরবী ভাষায় পরিবেশন করা হয়।

উল্লেখ্য, জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এ ওয়েবিনারটি দূতাবাসের “মুজিব বর্ষ ওয়েবিনার” সিরিজের ৪র্থ ওয়েবিনার। এই ওয়েবিনারের পরে বিকালে জর্ডানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অপর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ও ইউনেস্কোতে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উদ্‌যাপন

প্যারিস, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ :

 

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষ্যে সকালে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মাধ্যমে দূতাবাসের অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অস্থায়ী শহিদ মিনারের পাদদেশে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে ভাষা শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন।  এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো-এর মহাপরিচালক Audrey Azoulay প্রদত্ত ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়।

ইউনেস্কো-এর মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং একইসাথে মাতৃভাষা ও বহুভাষার প্রসারে বাংলাদেশের গৃহীত কার্যক্রম ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের ‘Independence Hero’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলা ও বাঙালি জাতিসত্তার স্বীকৃতি অর্জনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

চলমান কোভিড-১৯ অতিমারির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দূতাবাসের সকল সদস্য এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। প্রবাসীদের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে দূতাবাস  অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজন করে। ফলে ফ্রান্সে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও গুণীজন অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।

ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন তাঁর  বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছেন, উজ্জীবিত করেছেন, দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি ইউনেস্কো কর্তৃক এই দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণাকে ২১ শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিকীকরণ বলে অভিহিত করেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিতকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষার্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

এছাড়া ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ইউনেস্কো-এর ২৮টি সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ভাষা প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক ভিন্নধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি বিশেষায়িত একটি ওয়েবসাইট (www.eventsbangladeshinparis.fr) ও দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হতে একইসাথে সম্প্রসারিত হয়। ভার্চুয়াল ভাষা প্রদর্শনীতে ২১টি দেশের ব্যানার, পোস্টার বহুভাষা ও সংস্কৃতির এক মিলনস্থলে পরিণত হয়।

এছাড়া ২০টি দেশের অংশগ্রহণে বিশ্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক আয়োজন সম্প্রচারিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছাড়াও ইউনেস্কোর উপ-মহাপরিচালক (শিক্ষা) Stefania Giannini, ইউনেস্কো-এর ৬টি ইলেক্টোরাল গ্রুপের সভাপতিগণ পৃথক পৃথক বক্তব্য প্রদান করেন। ইউনেস্কোর উপ-মহাপরিচালক (শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাতৃভাষা তথা ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যির বিশ্বময় প্রসারে বাংলাদেশ নেতৃত্বের ভূমিকায় আসীন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তিনি বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ে বঙ্গবন্ধুর সাহসী ও নিরলস প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আয়োজনে ইউনেস্কো ঘোষিত প্রতিপাদ্য ‘Fostering Multilingualism for inclusion in education and society’ – কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, মা ও মাতৃভাষা যে কোনো ব্যক্তির নিজস্ব সত্তা তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

 

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন

 

অটোয়া (কানাডা) ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ :

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২১ অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপিত হয়। দিবসের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ হাউজে সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় এবং একই সাথে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। পরিশেষে শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সকল ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। একই সাথে, হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রমহানি মা বোনদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। করোনা মহামারির কারণে ভার্চুয়ালি আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী ও ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের অন্যতম সদস্য ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত আবদুস সালাম বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ও টেরিটোরির প্রবাসী বাংলাদেশি ও এর বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রদর্শন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

সভাপতির ভাষণে হাইকমিশনার বলেন, এ বছরের শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে তাৎপর্যপুর্ণ। এ বছরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদ্‌যাপন করছি। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষায় তথা বাঙালি জাতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তা ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ বাঙালির গৌরবময় ঐতিহাসিক দলিলে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো কালে কালে আমাদের জাতীয় জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। এতদঞ্চলের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের স্বার্থসুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি অর্জনের পিছনে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস। জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বার বার কারাবরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু রাজবন্দী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় থাকাকালে রাতের অন্ধকারে সর্বদলীয় ভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা তাঁর সাথে দেখা করেন এবং এ সময় বঙ্গবন্ধু একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত দেন।

তিনি সকলকে অবহিত করেন যে, হাইকমিশনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বাংলাভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে কাজ করবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি কানাডায় অবস্থিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিল্পীবৃন্দের এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

পরে একটি ভার্চুয়াল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, ভারত, শ্রীলংকা ও ফ্রান্সের শিল্পীগণ নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষায় গান, নাচ ও কবিতা পাঠ করেন। বিভিন্ন দেশের ও ভাষার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার যে মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সকল ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান ও লালন করার বিষয়টি উঠে আসে।

 

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসে নতুন শহিদ মিনার স্থাপন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

তাসখন্দ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ :

বাংলাদেশ দূতাবাস, তাসখন্দে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্্যাপন করা হয়। উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং নতুন স্থাপিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অতঃপর রাষ্ট্রদূত শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং পরে বক্তব্য প্রদান করেন। দূতাবাসের মিনিস্টার ও উপমিশন প্রধান নৃপেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে উজবেকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত মনীষ প্রভাত, ইউএনওডিসি-এর সমন্বয়কারী মিজ আশিতা মিত্তাল, উজবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ওয়ার্ল্ড ইকোনমি এন্ড ডিপ্লোমেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস রেক্টরসহ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, ভাষাবিদসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট উজবেক ভাষা গবেষক ড. গুলাম ইসমাইলভ মিরজয়ভিচ তাঁর মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ দূতাবাসের সকলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীগণ বিভিন্ন ভাষায় ১২ টি কবিতা আবৃত্তি করেন।

Social Medias

More News on this Topic
01779911004