April 11, 2021, 1:45 pm
Headlines:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় বিদ্যমান নির্দেশনা ১৪ এপ্রিল ২০২১ বলবৎ থাকবে বিআরটিসি’র ট্রিপ ব্যবস্থাপনা ও টিকেটিং-এ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সেতুমন্ত্রীর নির্দেশ ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহরোধে  সমন্বিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার: শিল্পমন্ত্রী প্রতরিক্ষা মন্ত্রণালয়ে র্ঊধ্বতন র্কমর্কতাদরে সাথে AFWC প্রশক্ষির্ণাথীগণরে মতবনিমিয় সভা ‘আর্মি চিফ’স কনক্লেভ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে : স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা পরিস্থিতি অবনতির দায় কার? বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস্ ২০২০ এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫টি স্বর্ণপদক অর্জন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষে হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’ সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে মন্ত্রীবর্গের শোক বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৬ জনের ভ্যাকসিন গ্রহণ সবাইকে কোভিড-১৯ টিকার কোর্স সম্পন্ন করতে খাদ্যমন্ত্রীর আহ্বান Quader urges BNP not to do politics over pandemic US firm conducts 2000th STS LNG transfer in Bay of Bengal চট্টগ্রামে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ৫২৩ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী খুলনায় করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন তিন হাজার চারশত ৬১ জন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন সৌদী প্রবাসী অসুস্থ বাংলাদেশি

নতুন বছরে হবে না বৈশাখী মেলা, মৃৎশিল্পীদের গ্রামে বিষাদের ছায়া

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Monday, April 13, 2020,

সাব্বির হাসান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

মৃৎশিল্পীরা এখনো বেঁচে আছেন বাংলা নববর্ষকে ঘিরে। পহেলা বৈশাখের দিন থেকে শুরু করে পুরো বৈশাখ মাস জুড়েই দেশের বিভিন্ন স্থানে সমারোহের সঙ্গে বৈশাখী মেলা হয়ে থাকে। বৈশাখী মেলায় গ্রাম-বাংলার একটা বড় অংশ জুড়েই দেখা যায় মৃৎশিল্পের আবেদন। বছরের অন্য সময় মাটির তৈরি প্রয়োজনীয় অনেক তৈজসপত্র খুঁজে পেতে কষ্ট হলেও বৈশাখ মাসে সহজেই হাতের কাছে তা পাওয়া যায়। ফলে একদিকে যেমন মাটির তৈরি প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র সহজেই কিনতে করতে পারে সাধারণ মানুষ অন্যদিকে এই সময়টায় মৃৎশিল্পীদের ঘরে থাকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন। করোনা পরিস্থিতিতে উৎসবের জায়গায় এবার নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া!

জানা যায়, করোনার কারণে হবিগঞ্জ জেলার উপজেলাকে উপজেলাকে গত ২৬ মার্চ থেকে সবকিছু সীমিত করে রাখা হয়। তাছাড়া আশেপাশের অন্য স্থানেও প্রায় এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনসাধারণের চলাচল রয়েছে সীমিত। চলছে না কোনো পরিবহনও। বন্ধ রয়েছে বাজার-হাট। ১৪ এপ্রিল যে পহেলা বৈশাখ ঘিরে বাঙালির উদ্দীপনার শেষ থাকে না। যে পহেলা বৈশাখকে ঘিরেই এখনো টিকে রয়েছে পালপাড়াগুলো সেই পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীদের পরিবারে এবার পহেলা বৈশাখ এসেছে বিষাদের কালো ছায়া নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ থেকে জেলার গ্রামে গ্রামে গ্রামীণ মেলা বসে। এসব মেলায় মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্র বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, ফুলদানি, মাটির ব্যাংক, বাসন-পেয়ালা, বাচ্চাদের নানা রকম খেলনা এসবই বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে থাকে। আর বছরের এই সময়েই এসব মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা বেশি থাকায় অধিক পরিমাণে তৈরি করা হয় মাটির এসব দ্রব্য। পালপাড়ায় বৈশাখ মাস আসার কমপক্ষে একমাস আগে থেকেই চলতে থাকে প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে বইতে থাকে উৎসব আর তৈজসপত্র বানানোর ধুম। বছরের আয়ের একটা বড় অংশই এই বৈশাখকে ঘিরে তারা উপার্জন করে থাকে। তবে করোনার প্রভাবে জনজীবন স্থবির হয়ে যাওয়ায় এই মৃৎশিল্পীদের আয়-রোজগাও বন্ধ এখন। বৈশাখ ঘিরে তৈজসপত্র বানানোর ব্যস্ততা নেই তাদের।

কেননা এ বছর আর উদযাপিত হবে না পহেলা বৈশাখ। ফলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে তাদের অন্যতম এই ব্যবসা। তৈজসপত্র তৈরির এই কারিগরদের বেশির ভাগই নিম্নআয়ের আর দরিদ্র হওয়ায় আগামীদিন কিভাবে যাবে সেই চিন্তায় কপালে হতাশার ভাঁজ পড়েছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা, দূর্গাপুর গ্রামে কমপক্ষে শতাধিক পরিবার রয়েছে যারা এই মৃৎশিল্পকে ধরে রেখেছেন।
মাধবপুরের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গত দুই মাস আগে থেকেই পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি চলছিল পালপাড়ায়। তৈজসপত্র, খেলনা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন তারা। তবে যে সময়টায় এই ব্যস্ততায় দিন কাটে তাদের ঠিক তখনই সবকিছু পাল্টে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির এখন। এই অবস্থায় জীবন নিয়েই মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বাসন-কোসন কিনবে কে? তাছাড়া বৈশাখী মেলাও কোথাও হবে না এবার। ফলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়েছেন তারা।

শোভা রানী পাল নামে এক মৃৎশিল্পী জানান, মাটি কিনে এনে তৈজসপত্র বানাতে হয়। মাটি কিনে রেখেছিলেন কিছু কিছু তৈজসপত্র ও খেলনা বানানো হলেও তা বিক্রি আর হবে না এবার। অনেকের তৈজসপত্র পোড়ানোর চুলাও জ্বলেনি। তিনি আরও জানান, বছরের পূজাসহ কয়েকটি স্থানের মেলাতে মাটির এসা জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। তবে বৈশাখ মাসেই আমাদের মূল মৌসুম। এই মৌসুমের আয় দিয়েই বছরের অনেকটা দিন চলে যায়। কিন্তু এ বছর সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে গেছে। সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল।

শিল্পের আগ্রাসনে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্লাটিক আর মেটাল দ্রব্যের ছড়াছড়ি থাকলেও মাটির তৈরি তৈজসপত্র হারিয়ে যায়নি একেবারে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহার কম হলেও মাটির তৈরির তৈজসপত্রের প্রয়োজনীয়তা গ্রামীণ পরিবারে রয়ে গেছে এখনো। এছাড়া শহরে পরিবারেও ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে বেশ চাহিদা রয়েছে মাটির তৈরি নানা জিনিসপত্রের। আর এ কারণেই এখনো টিকে রয়েছে গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্য।

ঐতিহ্যকে ধারণ করে পৈত্রিক পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন অনেক মৃৎশিল্পী পরিবার। তবে আর্থিকভাবে কখনোই স্বচ্ছল ছিলেন না তাদের বেশিরভাগই। পহেলা বৈশাখ যেন এ সব পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। হরেক রকম বাহারি তৈজসপত্র তৈরি হতে থাকে পালপাড়ায়। গনগনে আগুনের চুলোর তাপে ঘাম ঝরে কুমোরের। রঙ-তুলির আঁচড়ে নানা রূপ নেয় মাটির তৈজসপত্র ও খেলনা সামগ্রী। বাঁশের ঝুঁড়িতে সাজিয়ে গ্রামের মেলায় ছুটে বেড়ান এসব পরিবারের কর্তা-ছেলেপুলেরা। লক্ষ্য একটু আর্থিক স্বচ্ছলতা। কিন্তু করোনার প্রভাবে সব স্বপ্ন মিশে গেছে মাটিতে। বন্ধ রয়েছে চুলো, স্তূপ আকারে পরে আছে মাটি। রঙ-তুলির আঁচড় পড়েনি তৈরি করা কিছু তৈজসপত্রেও। মেলা বন্ধ, বিক্রি বন্ধ। এই আর্থিক ক্ষতি আদৌ কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না জানা নেই তাদের।

Social Medias

More News on this Topic
01779911004