April 11, 2021, 1:04 pm
Headlines:
‘আর্মি চিফ’স কনক্লেভ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে : স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা পরিস্থিতি অবনতির দায় কার? বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস্ ২০২০ এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫টি স্বর্ণপদক অর্জন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষে হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’ সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে মন্ত্রীবর্গের শোক বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৬ জনের ভ্যাকসিন গ্রহণ সবাইকে কোভিড-১৯ টিকার কোর্স সম্পন্ন করতে খাদ্যমন্ত্রীর আহ্বান Quader urges BNP not to do politics over pandemic US firm conducts 2000th STS LNG transfer in Bay of Bengal চট্টগ্রামে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ৫২৩ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী খুলনায় করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন তিন হাজার চারশত ৬১ জন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন সৌদী প্রবাসী অসুস্থ বাংলাদেশি ১০ এপ্রিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়া চর্চার ভূমিকা অপরিসীম : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ১২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২১-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ত্রাণ চোররা রাজাকারদেরকেও হার মানাচ্ছে !

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Saturday, April 11, 2020,

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শব্দটি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়েছে এবং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন ছড়াতে থাকবে, সেটি হলো ‘রাজাকার’। আর এই ‘রাজাকার’ শব্দটির সাথে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় ঘটে ১৯৭১ সালে।

তবে ১৯৭১ সালের সেই রাজাকারদেরকেও হার মানাচ্ছে ২০২০ সালের ত্রাণ চোরেরা। মরণঘাতী ভাইরাস করোনা যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ঠিক তখনেই দেশে ত্রাণ চোররা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। করোনা  রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে চোরদের সংখ্যাও যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে মারা গেছে লক্ষাধিক মানুষ এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৬ লাখেরও অধিক মানুষ। করোনার এ মরণ থাবা থেকে বাদ যায়নি শক্তিশালী কোন রাষ্ট্রই।
বাংলাদেশে প্রথম মরণঘাতী করোনা থাবা দিয়েছিল চলতি বছরের ০৮ মার্চে। সেদিন প্রথম তিন জনকে সনাক্ত করে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তিনজন দিয়ে শুরু হলেও আজ পযর্ন্ত দেশে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪২৪ জন এবং মারা গেছে ২৭ জন।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা যখন প্রশংসনীয় ঠিক তখনেই সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে কতিপয় জনপ্রতিনিধিরা। দেশের সাধারণ মানুষকে যেন না খেয়ে দিন কাটেতে না হয় সেজন্য সরকার জনসাধারাণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি জেলায় বরাদ্ধ দিয়েছে টন টন চালসহ ত্রাণসামগ্রী। যা প্রশাসনের কাছ থেকে  জনপ্রতিনিধিরা গ্রহণ করে অসহায়-গরীব মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসার কথা।

প্রতিটি অসহায়-গরীব মানুষের বাড়িতে যেন ত্রাণ ঠিকমত পৌঁছে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রয়েছে কড়া নির্দেশনা।

কিন্তু চোর কি আর ধর্মের কথা শুনে! তাদের কাছে চুরি করাই যে মুখ্য। দেশ থাকুক আর নাই থাকুক তারা থাকলেই যতেষ্ঠ বলে মনে করে এই ত্রাণ চোরেরা। তারা এতোটাই অমানুষ যে দেশের প্রতিটি মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়েছে ঠিক তখনেই তারা মহাউৎসবে মেতে উঠেছে গরীবের ত্রাণ মেরে দিতে। প্রবাদ আছে “ চোরের নাই সরম আর ভিক্ষুকের নাই ধরম” । মানে চোর চুরি করে ধরা পরলেও তারা পরবর্তিতে চুরি ছাড়ে না এবং পারলে মসজিদের টাকাও মেরে দেয়।

তবে ত্রাণ চোরেরা কিন্তু একদিনেই চোর হয়নি। এদের অতীত ঘেটে দেখলে দেখা যাবে এরা ছোট বেলা থেকেই চুরি করতো। হয়তো বাপের পকেট থেকে টাকা বের করে নিতো। নতুবা মায়ের অজান্তে বাড়িতে রেখে দেওয়া চাল চুরি করে পান, বিড়ি, সিগারেট খেত। তাই তারা চুরিতেই অভ্যস্ত। মজার বিষয় এই চোরদের মাধ্যমে যাদের জন্ম তারাও অধিকাংশই চোর হয়ে জন্মায়। যেমন দেখা যায় বাপের চুরি প্রকাশ পেলে ক্ষেপে যায় ছেলেও। আর প্রতিশোধ নিতে অবলম্বন করে একাধিক কৌশল।

বাপের ত্রাণ চুরির তথ্য প্রকাশ করলে তারা ছাড় দেয়নি প্রকাশকারীদেরও । মিডিয়ায় প্রকাশ করতে গিয়ে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে অনেক সংবাদকর্মীদের। এমন কি মোবাইল চুরির অপবাদ শুনতে হয়েছে সংবাদকর্মীকে।

এমনকি এই চোরেরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া করা হুশিয়ারীকেও তোয়াক্কা করছে না। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবারেও (১০ এপ্রিল) অনেক জায়গা থেকে ত্রাণ চোরদের চুরি করা ত্রাণ জব্দ করার খবর পাওয়া গেছে।
তার মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিয়ারা পলাশতলা এলাকায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার গুদাম থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৭ বস্তা চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই নেতার নাম হাবিবুর রহমান। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্যও।

এছাড়া ইতিমধ্যে দেশের ভিভিন্ন এলাকায় ধরা পড়েছে অসংখ্য ত্রাণ চোর । তাদের পরিচয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশও হয়েছে।  তাই নতুন করে তাদের নিয়ে আর নাই ঘাটলাম।

এদিকে অনেকেই আবার সরকারের দেওয়া ত্রানের বিষয়টি গোপন রেখে নিজের নামে প্রচার করতে দেখা গেছে। চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নিজস্ব অর্থায়নে কর্মহীন অসহায় মানুষদের সাহায্য করছেন বলে মিডিয়ায় প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে।

সোনারগাঁয়ের এক সাংবাদিক তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অসংখ্য মানুষ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ফোন করে আমাদের কাছে জানতে চান ‘সোনারগাঁয়ে কি কোনো সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ আসেনি’? প্রশ্নকারীদের যখন বলা হয় কেন এ প্রশ্ন করছেন? তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় ‘সোনারগাঁয়ের প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রচার করছে যে তারা ব্যক্তিগত অর্থায়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন’।

এসব নেতাদের কর্মকান্ড দেখলে মনে পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই বানীর কথা। যেখানে তিনি বলেছিলেন, ”অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবীদদের নিয়ে কোনদিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশেরে জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।”

সরকার সারাদেশে ত্রাণ পাঠালেও এখনো অনেক এলাকার মানুষ সরকারি ত্রাণের গন্ধই পায়নি বলে জানা গেছে। নীলফামারী জেলার ডোমারেও ত্রাণের দেখা মেলেনি অনেক অসহায় মানুষের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিনমুজুর জাহেদুল বলেন, করোনার কারণে সব কাজ বন্ধ থাকায় উপার্জন নেই। তাছাড়া বাইরেও যেতে পারছি না । বাড়িতে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এ পযর্ন্ত সরকারি-বেসরকারি কোন ত্রাণ পাইনি। শুনলাম সরকার নাকি অনেক ত্রাণ বরাদ্ধ দিয়েছে কিন্তু ত্রাণ গেলো কই?

জাহেদুলের মতো অনেকের প্রশ্ন সরকারের এতো ত্রাণ গেলো কই ? ত্রাণ চোরদের খবর যেভাবে প্রচার হচ্ছে অনেকেই জনপ্রতিনিধিদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

এই চোরদের উপর আস্থা ছিলো না আমাদের জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও। তিনি ১৯৭৩ সালে বরগুনায় এক জনসভায় বলেছিলেন আমি অন্যদেশ থেকে যা নিয়ে আসি সব চাটার গোষ্ঠীরা খেয়ে ফেলে, আমার গরীবরা কিছুই পায় না।

অনেকের দাবি, সরকার যেন ত্রাণ সামগ্রী আর চেয়ানম্যান, মেম্বারদের মাধ্যমে না দেয়। তারা প্রশাসনে মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার জোড়ালো আবেদন জানান।

সরকারের অনুদান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী জনপ্রতিনিধিরা ঠিকমত না দেওয়ায় মানবতাকে হেয় করা এবং সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অভিমাত পোষন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, জনপ্রতিনিধিদের উচিত সরকারের ত্রাণ সরকারের নামেই উপকারভোগীদের হাতে পৌছে দেয়া।

সুতরাং ১৯৭১ সালে যারা বাঙ্গালী জাতির সাথে বেঈমানি করেছিলো সেই রাজাকাররা ছিলো পাকিস্থানি প্রডাক্ট আর ২০২০ সালের মরণঘাতী করোনাকে কেন্দ্র করে যারা বাংলাদেশের গরীব-অসহায়দের ত্রাণ মেরে দিচ্ছে তারা হলো এই দেশেরেই প্রডাক্ট। তাই বলা যায় এদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের সাথে বেঈমানি করা ত্রাণ চোরেরা সেই রাজাকারদেরকেও হাড় মানাচ্ছে। মরণঘাতী করোনার ভয়াবহতা সকল রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের মৃত্যুর ভয় ধরিয়ে দিতে পারলেও বাংলার এই চোরেরা রয়েছে নির্ভয়ে।

কাওছার আল হাবীব
গণমাধ্যমকর্মী

Social Medias

More News on this Topic
01779911004