March 5, 2021, 6:30 am
Headlines:
জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার সমস্যা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত :প্রধানমন্ত্রী ভারত যোগাযোগের ইস্যুটির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে: জয়শংকর শাহজালালে ৪৫টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে কাস্টম হাউস:  গ্রেপ্তার ১ তরুণদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে দক্ষ করতে পারলে বিলিয়ন ডলার অর্জন সম্ভব: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় আইন বাতিলের দাবি আইনহীনতারই নামান্তর: তথ্যমন্ত্রী ৪ মার্চ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন  কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এইচ টি ইমাম মনের দিক থেকে তরুণ ছিলেন: তথ্যমন্ত্রী কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য বানোয়াট ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞানী গবেষকদের মানবকল্যাণে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে এইচ টি ইমামের মরদেহ মুশতাক আহমেদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী BD need to take strategic preparation as LDC graduate with momentum: Research আমি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ষড়যন্ত্রের শিকার, রাজনীতির শিকার: কলিমুল্লাহ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফর আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী এইচ টি ইমামে‘র মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভূমির অবক্ষয় রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার: পরিবেশ মন্ত্রী ডিজিটাল ইকোনমি গড়তে স্টার্টআপরাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Friday, February 5, 2021,

১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর  ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ :

১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কলকাতার ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রণালয় আগামীকাল কলকাতায় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহায়তায় মহান দিবসটি উপলক্ষ্যে সেই ঐতিহ্যবাহী প্যারেড গ্রাউন্ডে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসকে সঙ্গে নিয়ে যে স্মরণসভা আয়োজন করেছে, তা একটি মাইলফলক উদ্যোগ বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের প্রায় এককোটি মানুষকে ভারত যেমন আশ্রয়-খাদ্য-রসদসহ সবরকম সহায়তা দিয়েছে, তেমনি হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য এদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সে কারণে আমাদের দু’দেশের বন্ধুত্ব রক্তের অক্ষরে লেখা। করোনাভাইরাসজনিত বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলাতেও ভারতের পক্ষ থেকে বিশলাখ ভ্যাকসিন উপহার সেই বন্ধুত্বেরই স্মারক।

ছাত্রজীবনে জাতির পিতার কলকাতায় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এই শহরের ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময়েই তিনি জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং শুদ্ধ রাজনীতির চর্চা ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের অনন্য সম্মিলনে ধর্মনিরপেক্ষতা কীভাবে সমাজজীবনকে বদলে দিতে পারে, তা তিনি কলকাতা শহরে ছাত্রাবস্থাতেই রপ্ত করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৭২ লাখ বাংলাদেশি আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন গোটা কলকাতা হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মিলনমেলা। ভারত সরকারের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরাগী নেতৃবৃন্দ কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। সে সময় কলকাতার কবি-সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীসহ সকলেই বাংলাদোশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাঙালি জাতির পিতার প্রতি তাঁদের আগ্রহ ছিল সীমাহীন। শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে কলকাতায় যাত্রা বিরতি করবেন, এমনটাই ভেবেছিল কলকাতাবাসী। কিন্তু জাতির পিতা তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন দেশের মাটিতে আগে যেতে চেয়েছিলেন বলে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ দিল্লী থেকে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার পথে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান যে, তিনি অতি শিগগিরই কলকাতা আসবেন।

পরবর্তীতে জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনদিনের সফরে কলকাতায় আসেন এবং ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ স্বতঃস্ফূর্ত পশ্চিমবঙ্গবাসীর সম্মুখে ভাষণ প্রদান করেন। সেদিন তিনি উত্তাল জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’। তাঁর অগ্নিঝরা ভাষণে উপস্থিত জনতা আবেগাপ্লুত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ, সরকার, সশস্ত্রবাহিনী, বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং আসামের জনগণের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণের মাহেদ্রক্ষণে আমি আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। সে সঙ্গে আমি গভীর কৃতজ্ঞাভরে স্মরণ করি, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণের একাত্মতা ও আত্মত্যাগ। এই ঐতিহাসিক দিনে জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে – এই প্রত্যাশা করি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

Social Medias

More News on this Topic
01779911004