April 11, 2021, 11:59 am
Headlines:
খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে : স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা পরিস্থিতি অবনতির দায় কার? বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস্ ২০২০ এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫টি স্বর্ণপদক অর্জন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষে হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস’ সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে মন্ত্রীবর্গের শোক বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৬ জনের ভ্যাকসিন গ্রহণ সবাইকে কোভিড-১৯ টিকার কোর্স সম্পন্ন করতে খাদ্যমন্ত্রীর আহ্বান Quader urges BNP not to do politics over pandemic US firm conducts 2000th STS LNG transfer in Bay of Bengal চট্টগ্রামে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ৫২৩ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী খুলনায় করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন তিন হাজার চারশত ৬১ জন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন সৌদী প্রবাসী অসুস্থ বাংলাদেশি ১০ এপ্রিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়া চর্চার ভূমিকা অপরিসীম : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ১২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২১-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিবে: আইনমন্ত্রী   

ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ করাই হোক মুজিববর্ষে অঙ্গীকার :  রাষ্ট্রপতি

The Bangladesh Beyond
  • Published Time Tuesday, March 16, 2021,

ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করাই হোক মুজিববর্ষে সকলের অঙ্গীকার :  রাষ্ট্রপতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

 

ঢাকা, ১৬ মার্চ ২০২১ :

 

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“আজ ১৭ মার্চ, বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯২০ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমি মহান এ নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার আয়োজনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে করোনা। তাই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী দেশ-বিদেশে সাড়ম্বরে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সরকার ‘মুজিববর্ষ’র সময়সীমা ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। জন্মশতবার্ষিকীর এই বর্ণাঢ্য আয়োজন যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্‌যাপনের জন্য আমি দেশবাসী ও প্রবাসী সকল বাঙালির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মানবদরদি কিন্তু অধিকার আদায়ে আপসহীন। চল্লিশের দশকে এই তরুণ ছাত্রনেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী’র সংস্পর্শে এসে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪৮ সালে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’, ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬ এর ৬-দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। কিন্তু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো শাসকগোষ্ঠীর সাথে আপস করেননি।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালির আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী অতর্কিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে ২৬ মার্চ ১৯৭১ জাতির পিতা ঘোষণা করেন বাঙালি জাতির বহুকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এরপর দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি অবস্থায় শাসকগোষ্ঠী তাঁকে প্রহসনমূলকভাবে ফাঁসির হুকুম দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমি মুসলমান। আমি জানি, মুসলমান মাত্র একবারই মরে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম আমি তাদের কাছে নতি স্বীকার করবো না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা”। দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য বাংলা, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু আজ এক ও অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে জাতির পিতা ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। মিত্রবাহিনী সদস্যদের প্রত্যাবর্তন, স্বল্পসময়ের মধ্যে দেশের সংবিধান রচনা, জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণ, সকল স্তরে দুর্নীতি নির্মূল, কৃষি বিপ্লব, কলকারখানাকে রাষ্ট্রীয়করণসহ দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি।

রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নীতি ও আদর্শের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’সহ তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান লেখকদের রচিত বিভিন্ন মূল্যবান গ্রন্থ পাঠ করে তরুণ প্রজন্ম আগামীতে জাতিগঠনে যথাযথ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাঙালি জাতির চিরন্তন প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছা যায়। তাঁর দেখানো পথেই তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করাই হোক মুজিববর্ষে সকলের অঙ্গীকার। তাঁর নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব- এ প্রত্যাশা করি।

জয় বাংলা।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

Social Medias

More News on this Topic
01779911004